দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কয়েকদিন আগেই সতর্ক করেছিলেন, মস্কো বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতভর রাশিয়া ৬৫৬টি ড্রোন এবং ৭৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল রাজধানী কিয়েভ, মধ্যাঞ্চলের দিনিপ্রো এবং পূর্বাঞ্চলের পোলতাভা, খারকিভ ও জাপোরিঝিয়া শহর।
বিমান বাহিনীর দাবি, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬০২টি ড্রোন ধ্বংস ও নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রাজধানীতে ‘বৃহৎ শত্রু হামলায়’ অন্তত চারজন নিহত এবং দুই শিশুসহ ৫৮ জন আহত হয়েছেন।
হামলার সময় তিনি নাগরিকদের সতর্ক করে বলেন, ‘শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী কাজ করছে। সবাই আশ্রয়কেন্দ্রে থাকুন।’
মধ্য ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রুশ হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং শিশুসহ আরও ৩৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন গভর্নর ওলেক্সান্দর গানঝা।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খারকিভ শহরেও শিশুসহ ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র ইহোর তেরেখভ।
রাজধানী কিয়েভ থেকে সংবাদদাতা অড্রি ম্যাকঅ্যালপাইন জানান, সম্ভাব্য বড় হামলার আশঙ্কায় আগেই সতর্ক করেছিল ইউক্রেন সরকার। সে কারণে অনেক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছিলেন।
তিনি জানান, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পাতালরেল স্টেশন ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলো মানুষে পরিপূর্ণ ছিল। হামলার আশঙ্কা থাকলেও রাজধানীতে গত কয়েকদিন ধরে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছিল।
গত ১০ দিনের মধ্যে এটি কিয়েভে দ্বিতীয় বড় ধরনের হামলা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাশিয়ার সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক শিল্প অবকাঠামো।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘উচ্চ নির্ভুলতার অস্ত্র’ ব্যবহার করে কিয়েভ, জাপোরিঝিয়া, খারকিভ ও দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামোতেও হামলা করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইউক্রেন সীমান্তবর্তী রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন গভর্নর আলেকজান্ডার খিনশটেইন।
এছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার শহরের একটি তেল শোধনাগারেও ড্রোন হামলার পর আগুন লাগে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
সংবাদদাতা ম্যাকঅ্যালপাইন বলেন, ‘রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলা ক্রমেই আরও তীব্র হয়ে উঠছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এত বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করেছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ইউক্রেন এখনো পর্যাপ্ত সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি।’
গত শুক্রবার জেলেনস্কি বলেছিলেন, ‘রাশিয়া নতুন বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন গোয়েন্দা তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে।’
একই সঙ্গে তিনি নাগরিকদের বিমান হামলার সতর্কসংকেত গুরুত্বের সঙ্গে মেনে চলার আহ্বান জানান।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধ এখনো অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে শান্তি প্রচেষ্টা চললেও সাম্প্রতিক সময়ে তা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়েই বেশি মনোযোগী।
/অ